সারসংক্ষেপ

ড. প্রকৌশলী আনোয়ারুল বাসারের এই আত্মজৈবনিক রচনাটি জীবনের নৈতিক লড়াইকে প্রকৌশল ধারণা “Dynamic Settlement”-এর সাথে চমৎকারভাবে যুক্ত করেছে। জাহাজের ছয়টি গতির (Heaving, Pitching, Rolling, Surging, Swaying, Yawing) মতো জীবনের প্রতিটি দোলাচলকেও তিনি সততা, দৃঢ়তা ও আত্মসংযমের মাধ্যমে সামাল দেওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখিয়েছেন। লেখক তার সরকারি চাকরিজীবনের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাতান্ত্রিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু কখনো ঘুষের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। সততার পথ বেছে নিয়ে তিনি দেখিয়েছেন—একজন প্রকৃত প্রকৌশলী শুধু যন্ত্র নয়, নৈতিকতাকেও ভারসাম্যে রাখার শিল্প জানেন। দেশের প্রতি গভীর টান, সততার প্রতি অটল বিশ্বাস এবং বিদেশের চাকচিক্যের প্রতি অনাসক্তি—এই তিন শক্তি তার জীবনের “Dynamic Settlement”-এর মূল ভিত্তি। শেষ পর্যন্ত লেখাটি একটি স্বপ্নের আহ্বান হয়ে ওঠে—দুর্নীতিমুক্ত, সৎ ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্ন।

ভূমিকা:

জাহাজ ডিজাইন ও বিল্ডিং accomplished করার পর যখন সমুদ্রে Successfully Launch এবং Operate করা হয়, তখন Concept of “Dynamic Settlement” is fully reflected in real-life Scenario. ধারণাটি উপলব্ধি করা যায় Six Degrees of Motions এর মাধ্যমে — Heaving, Pitching, Rolling, Surging, Swaying, এবং Yawing। জাহাজকে Dynamically Stable বা Settle করতে হলে এই ছয়টা Motion কে Overcome করতে হয়।

যাহাই হউক না কেন, জীবনের Dynamic Settlement গল্পের শুরুটা করি। সেদিন ছিল সূর্যস্নাত জমকালো উজ্জল দিন। ছিল এক দীপ্তিময় সকাল। কাটায় কাটায় তখন সকাল ৮টা ৫৯ মিনিট। স্থান — বাংলাদেশ সচিবালয়! কিন্তু আমরা প্রকৃচির নেতারা বলি বাংলাদেশ মন্ত্রণালয়। কেন বলি, তা পরে বলব — যদি বলার সুযোগ আর কখনো না আসে! ভয় হয়, কারণ প্রতিদিন আমরা কাউকে না কাউকে হারাচ্ছি। তাই দেরি না করে বলেই ফেলি।

আজও ভুলতে পারি না আমাদের বুয়েট ’৯১ ক্লাব-এর কয়েকজন প্রিয় বন্ধুকে — ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর রুস্তম, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর চৌকষ ছাত্র দাউদ, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মিল্টন ও বদরুল।

রুস্তমের ঘটনা ছিল ভীষণ হৃদয়বিদারক। Tragic road accident in USA! ও আহসানুল্লাহ হল থেকে প্রায়ই আমাদের সোহরাওয়ার্দি হলের 404 নং রুমে আমার নাটোরের Room-mate এর কাছে আসতো। আর আমি ও রুস্তম একসাথে হল মসজিদে গিয়ে আসর এর নামাজ পড়তাম । জাপান থেকে আমেরিকাতে কনফারেন্সে পেপার present করতে এসে রোড cross করতে গিয়ে নাকি জাপান-আমেরিকার ড্রাইভিং driving direction নিয়ে confused হয়ে গিয়েছিলো। Ran over by a car!!! সেই স্মৃতি আজও বুকের ভেতর জ্বলজ্বল করে। আবার এই তো কিছু দিন আগে বুয়েট ৯১ ক্লাব এর আরেক বন্ধু কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর চৌকষ ছাত্র দাউদ কে চির বিদায় দিতে হলো সিঙ্গাপুরের এক নামকরা হসপিটালে। অনেক অসমাপ্ত কাজ বাকী রেখেই বুয়েট ক্লাবকে শূন্য করে একে একে আরো অনেককে চলে যেতে হচ্ছে। তাই বলেই নিজেকে হালকা করার চেষ্টা করি-

BUET Engineer or গ্রাজুয়েটদেরকে কখনও বলতে হয় না যে, তারা এস এস সি ও এইচ এস সি পাশ করেছে। তেমনি মন্ত্রীরা পদ-মর্যাদায় সচিবদের চেয়ে উপরে হেতু, মন্ত্রীদের কার্যালয়কে সচিবালয় না বলে মন্ত্রণালয় বলাই শ্রেয়। ফিরে আসি আমার গল্পে।

🏛️ মন্ত্রণালয়ের গল্প

বাংলাদেশ  মন্ত্রণালয়! উন্মূক্ত দরজা। DS (Deputy Secretary) এর office এর সামনে দিয়ে কয়েকবার হাঁটা হাঁটি আর দেই সালামের পর সালাম। কিন্তু কোনো উত্তর নেই।
অগত্যা বলেই ফেললাম—
“ঘুষ চায় স্যার!”

সংগে সংগে চেচিয়ে Response —
“কে ঘুষ চায়? কোথায় ঘুষ চায়? দিন ফাইল, লিখে দিচ্ছি।”
বললাম, “ফাইল  কেমন করে দিবো? ফাইলই তো আটকিয়ে রেখেছে……।”
ছয় মাসের জমে থাকা কথাগুলো বলে ফেললাম এক নিঃশ্বাসে। সঙ্গে সঙ্গে আবারো প্রশ্ন “লিখবো কোথায়? কোথায় আছে ফাইল? কার কাছে?” বললাম “ব্যুরোতে।” “যান, নিয়ে আসেন, আমি টেলিফোন করে দিচ্ছি” বললাম, “গেলে তো আর ফিরে এসে গেঁট দিয়ে ঢুকতে পারবো না। “যান, আমার গাড়ি নিয়ে।” 

মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে Approval পেয়ে গেলাম।
কিন্তু সেই সিনিয়র সহকারী সচিব, যিনি সবসময় সবকাজে বাগড়া বাধাতেন, স্বাক্ষর করে আমার হাতে Order এর কপিটা দিয়ে শাসিয়ে বলতে দ্বিধা করলেন না, “Protocol ভেঙে Approval করিয়ে নিয়ে কাজটা কিন্তু ঠিক করেননি, এর মাশুল কিন্তু ভবিষ্যতে আপনাকে হাড়ে হাড়ে দিতে হবে।” 

🔥 নীতির পরীক্ষা

স্কুলের নবম-দশম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকের চল্লিশ টা হাদিসের একটা হাদিস ছিল— “ঘুষ দাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়েই দোজখের আগুনে জ্বলবে।” বাংলাদেশের আইনেও ঘুষ অবৈধ। Two Equations Converged! — ধর্ম ও আইন!
তাই প্রচণ্ড Will Force এবং Strong Determination নিয়ে এগিয়ে গেছি — সততার পথে। “চাকুরীতে ঘুষ নিবো ও না, দিবো ও না” কিন্তু বলে রাখি, ঘুষ খেলে প্রতি মাসে একটা করে গাড়ী কিনতে পারতাম। তবে বরাবরই Target ছিল Honest Life Lead করবো। কারণ সৎ জীবনের মূল্য কখনো অর্থে মাপা যায় না।

⚖️ দুর্নীতি ও সততার যুদ্ধ

আমার সরকারি চাকরিজীবনের শুরু ২,৮৫০ টাকার Pay Scale-এ, ১৯৯১ সালে বুয়েট থেকে ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে পাশ করে। খবর পেলাম, ১২৫ টাকার “Basic Technical Increment” পাওয়া যাবে, কিন্তু রহস্যময় শর্ত—১০০ টাকা ঘুষ দিতে হবে!
দুঃখজনক হলেও সত্য, বুয়েটের সার্টিফিকেট দেখিয়েও মহারথীরা আমাকে “Graduate Engineer” হিসেবে Accept করলেন না। Technical Increment ও দিবেন না।
আমি নাছোড়বান্দা —কেন ঘুষ দিতে হবে?
আমি ছিলাম সবসময় Confident এবং বরাবরই Sincere!  ১০০% Class Attendance।
HSC 1984- এ, Class শুরু 1986 - এ, Passing Out 1991-এ। এই ছয় বছরে কোনো ক্লাসে Absent তো দূরের কথা, কোনো দিন কোনো ক্লাসে এক মিনিটের জন্যও Late হয়নি, যদিও চার বছরের কোর্স শেষ করতে লেগেছিল ছয় বছর — এরশাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে।

ঘুষ-মুক্ত যুদ্ধে যখন আমি একেবারেই বিদ্ধস্থ, তখন হঠাৎ কথা হয় আমার এক সিনিয়র ঘুষ দেওয়া Colleague এর সাথে । বললেন, “উনার (DS) কাছে যান, আমার কাজ হয় নি, সুতরাং আপনার কাজ হবে”। উনি ঘুষ খান না। আমি ৫,০০০ টাকা যাতায়াতে খরচ করেও ১০০ টাকার ঘুষ দেওয়া থেকে উদ্ধার পেয়েছিলাম। আল্লাহর কাছে শুকরানা আদায় করে শেষ করতে পারি না। 

কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না — কিন্তু রবী কবির মতে একের পর এক “Struggle” যেন শেষ হয়ে হয় না শেষ। তবুও সংকল্প অটুট ছিল —
“চাকরিতে ঘুষ নেব না, দিব না।” But Questions return to me again and again! এরকম Continuous Struggle করে Honest Life Lead করা কি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সম্ভব হবে? তাই সহজ রাস্তা ধরা। শর্টকাট ওয়েতে Without Struggle বিদেশের মাটিতে Smoothly Honest Life Lead করা হয়তো খুবই সহজ। সেরকমই তথ্য পেয়েছিলাম, পাশ করেই যারা বিদেশে পাড়ি দিয়েছে, তাঁদের কারো কারো সাথে যোগাযোগ করে।

🌍 Dynamic Settlement of Life

জীবন চলার পথে প্রতিদিন শিখেই চলেছি —
“Honest life” বিদেশে হয়তো সহজ, কিন্তু দেশে থেকে তা বজায় রাখা এক যুদ্ধের নাম।
তবুও আমি লড়েছি। কারণ আমার বিশ্বাস —
Dynamic Settlement এর মানে হলো জীবনের প্রতিটি ঢেউ সামলে ভারসাম্যে ফেরা।

বেছে নিয়েছি আমার জীবনের দর্শন: “Dynamic Settlement is Applicable for me — NOT Permanent Nor Static Settlement!”

তাই আমি যেন Offshore Frontier এ এক Floating House বানিয়ে Dynamically Stable হয়েছি—যা উপকূলের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে প্রচন্ড ঝড়, সুনামি, তুষারপাত, প্রবল স্রোত ও দমকা আবহাওয়ার মাঝে প্রতিনিয়ত দোদূল্যমান। My life is like this!
বিদেশের চাকচিক্য কখনো আমাকে টানতে পারেনি — না আমেরিকা, না কানাডা।

দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্নে:

তাই পরিশেষে কবির ভাষায় বলব—

“বার বার আসিব ফিরে,
মাইকেল মধুসূদন দত্তের মতো,
সাতক্ষীরার বেত্রবতীর তীরে—
জনগনকে সাথে নিয়ে,
দুদকের আন্দোলনের ফসল,
দুর্নীতি মুক্ত বাংলার মাটিতে।”

 

✍️ Editorial Comments:

লেখাটি এক প্রকৌশলীর আত্মজৈবনিক রচনা, যেখানে জাহাজের "Dynamic Settlement" ধারণা থেকে জীবনের অস্থিরতার মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও সংগ্রামের প্রতীক তৈরি করা হয়েছে।
(A powerful autobiographical narrative drawing a parallel between the dynamic stability of ships and the moral balance of an honest life. It reflects the author’s lifelong struggle to live with integrity amidst systemic corruption, loss, and global mobility — concluding with a vision for a corruption-free Bangladesh.)